ঢাকায় হত্যা মামলায় এক আসামি কারাগারে
তুরাগ নদে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধারের পর তাঁর বাবা হত্যা মামলা করেন। তদন্তে পাওয়া তথ্য যাচাই করছে নৌ-পুলিশ।
প্রতীকী ছবিতাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের জামিন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
তৃতীয় দফার রিমান্ড শেষে দীপকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর আইনজীবীরা জামিন চাইলে রাষ্ট্রপক্ষ বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে বিচারক আবেদন নাকচ করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দীপকে কারাগারে রাখার আবেদন জানান। আবেদনে তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তদন্তের প্রয়োজনে এসব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন অনুযায়ী, দীপ কিছু প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন এবং চুপ থেকেছেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম আদালতের আদেশের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফিরোজ উদ্দিনের আবেদনে সিসিটিভি ও কলতথ্য পর্যালোচনার কথা বলা হয়। তাঁর ভাষ্য, মৃত্যুর আগে তাহসিফকে দীপ ও জেরিকা তাসনিম দিশার সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। ঘটনার আগে তাঁদের বিভিন্ন স্থানে ও রেস্তোরাঁয় দেখা যায় বলেও আবেদনে উল্লেখ করেন তিনি।
পটভূমি
সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর দাফন হয়।
তাহসিফের বাবা শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে উত্তরখান থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ দীপকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায়।
আদালত শনিবার (৩১ অক্টোবর) দীপের প্রথম দফায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ও বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আরও দুই দফায় তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। প্রতিটি দফার মেয়াদ ছিল তিন দিন।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি করা তথ্যগুলোর যাচাই এখনো চলছে। ওই তথ্যের বিস্তারিত বা তদন্তের চূড়ান্ত ফল সম্পর্কে দেওয়া তথ্যে কিছু বলা হয়নি।
যা জানা গেছে, যা এখনো অনিশ্চিত
নিশ্চিত
- আদালত দীপের জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
- তাহসিফের বাবা উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
অনিশ্চিত
- জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি; তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, সেগুলো যাচাই চলছে।
- তদন্তের চূড়ান্ত ফল সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়নি।
এই লেখায় কোনো সংশোধন হয়নি। ভুল জানান