ডিসিকে সরাতে ৭২ ঘণ্টা, জয়পুরহাটে এরপর কী
আলোচনা সভার ব্যানার ও এক বক্তার বক্তব্য ঘিরে বিতর্কের পর জেলা প্রশাসকের অপসারণ দাবি করেছে ছাত্রদল। প্রশাসন বলছে, ব্যানারের ছবি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া হয়েছিল; ঘটনাটি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রতীকী ছবিজয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক মো. আল মামুন মিয়াকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের দাবি জানিয়েছে জেলা ছাত্রদল। শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় ব্যানার ও এক বক্তার বক্তব্য ঘিরে উত্তেজনার পর সংগঠনটি এই সময়সীমা দেয়।
জেলা ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দাবি পূরণ না হলে তারা কঠোর আন্দোলনে যাবে। সংগঠনটির সভাপতি গোলাম মাহফুজ শুভ বিজ্ঞপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি ছিল না এবং বক্তার বক্তব্যের সময় জেলা প্রশাসক নীরব ছিলেন।
জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে প্রশাসনের আয়োজিত সভার মূল ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না দেখে বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষোভ জানান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী তখন মঞ্চে উঠতে চাননি। পরে জিয়াউর রহমানের ছবি থাকা পোস্টার ব্যানারে লাগানো হলে তিনি মঞ্চে ওঠেন; নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধা ঘণ্টা পর সভা শুরু হয়।
সভায় বক্তা মারুফ হাসান শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ বললে আবার উত্তেজনা ছড়ায়। জেলা ছাত্রদল সভাপতি গোলাম মাহফুজ শুভ তাঁকে ডায়াস থেকে সরিয়ে দেন বলে জেলা ছাত্রদলের বিবরণে বলা হয়েছে। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব প্রশাসনের ভেতরে থাকা ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ শনাক্ত করার আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, ব্যানারটি জেলা প্রশাসক নিজেই ঠিক করেছিলেন। মো. আল মামুন মিয়া জানান, ইন্টারনেট থেকে ছবি নিয়ে ব্যানার তৈরি করা হয়েছিল। তিনি সভায় দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান। প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে নির্দেশ দেন। আব্দুল বারী বলেন, “ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত হয়ে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পটভূমি
জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধানের ভাষ্য, ১৯ বছর পর তাঁরা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করছেন। ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় দলের কর্মীরা কষ্ট পেয়েছেন বলেও তিনি জানান।
একই সভায় ব্যানার নিয়ে অসন্তোষ এবং বক্তার বক্তব্যের পর নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর পরিণতিতে ছাত্রদল জেলা প্রশাসকের অপসারণের দাবি ও সময়সীমা দিয়েছে। দাবি মানা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়; প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, তদন্তের পর ইচ্ছাকৃত হওয়ার প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যা নিশ্চিত, যা অনিশ্চিত
ছাত্রদলের অপসারণের দাবি, জেলা প্রশাসকের ক্ষমা চাওয়া এবং প্রতিমন্ত্রীর তদন্তের নির্দেশের কথা একাধিক বিবরণে রয়েছে। তবে ব্যানারে ছবি না থাকার কারণ ইচ্ছাকৃত ছিল কি না, তা তদন্তের ফল ছাড়া নিশ্চিত নয়।
যা জানা গেছে, যা এখনো অনিশ্চিত
নিশ্চিত
- জেলা ছাত্রদল জেলা প্রশাসক মো. আল মামুন মিয়াকে অপসারণের দাবিতে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছে।
- আলোচনা সভার ব্যানার ও বক্তার বক্তব্য ঘিরে সভায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
- জেলা প্রশাসক ব্যানার নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান; প্রতিমন্ত্রী তদন্তের নির্দেশ দেন।
অনিশ্চিত
- ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকার কারণ ইচ্ছাকৃত ছিল কি না, তা তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার কথা।
- জেলা ছাত্রদলের দাবি মেনে জেলা প্রশাসককে অপসারণ করা হবে কি না, তা এখনো জানা যায়নি।
এই লেখায় কোনো সংশোধন হয়নি। ভুল জানান

